শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৯ অপরাহ্ন
চেয়ারম্যানের গোপন সফর ফাঁস, তদন্তে পদত্যাগ চূড়ান্ত?
অনলাইন ডেস্ক
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অবশেষে সরে দাঁড়ালেন ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) তিনি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্যাংকের ঘনিষ্ঠ সূত্র।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। তখন পাঁচ সদস্যের নতুন বোর্ডে চেয়ারম্যান হন বিগত সরকারের সময় সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ওবায়েদ উল্লাহ। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নরের সুপারিশে তার এই নিয়োগ হয়।
কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। ৩ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি)-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ তাকে তলব করেন। তখনই তাকে পদত্যাগের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। জানা গেছে, তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক জোবায়দুর রহমান।
গণমাধ্যমে প্রকাশ, পদত্যাগের আগপর্যন্ত নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে ওবায়েদ উল্লাহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে জোর লবিং চালিয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে ১৫ জুলাই বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তার ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তলব করে। এর ঠিক পরদিন, ১৬ জুলাই ইসলামী ব্যাংকে হানা দেয় বিএফআইইউর একটি বিশেষ টিম।
এই অভিযানে গত আগস্টের পর থেকে ওবায়েদ উল্লাহ ইসলামী ব্যাংক থেকে কী সুবিধা নিয়েছেন, সে সংক্রান্ত নানা তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বিশেষভাবে খোঁজ নেওয়া হয় তার সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর সম্পর্কেও। প্রশ্ন উঠে, তিনি ব্যাংকের ব্যয়ভারে কোনো খরচ করেছেন কিনা এবং কোন খাত দেখিয়ে নিয়েছেন?
জানা যায়, ওবায়েদ উল্লাহ এই সফর সম্পর্কে ব্যাংকের পর্ষদে কোনো লিখিত নোট বা মেমো জমা দেননি। শুধু মৌখিকভাবে জানান, তিনি আন্তর্জাতিক একটি ব্যাংকের সঙ্গে ক্রেডিট লাইন ইস্যুতে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। অথচ, বিশেষ আমন্ত্রণ ছাড়া কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যানের এমন বৈঠকে অংশগ্রহণ নিয়মবহির্ভূত। পরিচালনা পর্ষদ নীতিগত দিক নির্ধারণ করে, কিন্তু প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।